চিত্রসহ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন বর্ণনা কর | Geography Notes | EVS Pedia

চিত্রসহ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন বর্ণনা কর।


ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূ-কেন্দ্র পর্যন্ত 1371 km ব্যাসার্ধের মধ্যে মাত্র 10 km গভীর স্থানের নমুনা শিলা সংগ্রহ করা গেছে, বাকী ভূ-অভ্যন্তরের গঠন ও অবস্থা জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থ ও রসায়নবিদ্যার নানা সূত্র অগ্ন্যুৎপাত ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবিধি বিশ্লেষণে জানা গেছে।

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন


স্তরবিন্যাস :-

(i) ভূ-বিজ্ঞানী সুয়েস এর ঘনত্বের ভিত্তিতে স্তর - বহিঃস্তর, মধ্যস্তর, কেন্দ্রমন্ডল।
(ii) ভ্যানডার গ্রাচট এর স্তরবিন্যাস - বহিঃস্থ সিয়াল, অন্তঃস্থ সিমা এবং মিশ্রস্তর।
(iii) 1940-42 খ্রীঃ বিজ্ঞানী কে. ই. বুলেন ভূমিকম্প তরঙ্গের বিশ্লেষণে স্তরবিন্যাস হল - ভূত্বক, গুরুমন্ডল, সীমান্ত অঞ্চল, নিম্নগুরুমন্ডল, বহিঃকেন্দ্রমন্ডল, অন্তঃকেন্দ্রমন্ডল।
(iv) সর্বজন স্বীকৃত স্তর - ① ভূত্বক ② অ্যাসথেনোস্ফিয়ার ③ গুরুমন্ডল বা ম্যান্টল ④ কেন্দ্রমন্ডল

ভূ-ত্বক :- [Earth - Crust]

• সংজ্ঞা :- পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা উপরিভাগে শক্ত ও কঠিন শিলা এবং মাটি দ্বারা গঠিত সবচেয়ে হালকা ও পাতলা ভূ-স্তরকে ভূ-ত্বক বলে, একে শিলামন্ডল বা লিথোস্ফিয়ার ও বলে, কারণ - ভূ-ত্বক বিভিন্ন শিলায় গঠিত এবং শিলা গঠন এখানে চলছে।
• অবস্থান :- পৃথিবীর সবচেয়ে উপরিভাগে, অ্যাসথেনোস্ফিয়ার -এর উপর অবস্থিত।

ভূ-ত্বক

গভীরতাঃ-

(i) ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গড়ে 33 km
(ii) সমুদ্র তলদেশে 6 - 10 km
(iii) স্থলভাগ বা মহাদেশে 10 - 70 km
পদার্থঃ- হালকা কঠিন সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম দ্বারা গঠিত।

উষ্ণতাঃ-

(i) এই স্তরে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সর্বত্র সমান নয়।
(ii) বিজ্ঞানী চেম্বারলিন ও কেলভিনের মতে 300 km গভীরতা পর্যন্ত 1°C / 75m হারে উষ্ণতা বাড়ে, এরপর 400 km পর্যন্ত 1°C / 100km হারে উষ্ণতা বাড়ে।
(iii) বিভিন্ন ভূ-বিজ্ঞানীর মতে —

গভীরতা (Depth) হোমসের মতে উষ্ণতা আধুনিক ধারণায় উষ্ণতা অ্যাডামসের মতে উষ্ণতা
0 km 10°C 10°C 10°C
30 km 800°C 760°C 630°C
60 km 1200°C 1330°C 930°C


ঘনত্বঃ- 2.7 - 2.9 gm/cc
আপেক্ষিক গুরুত্বঃ- ভূত্বকের আপেক্ষিক গুরুত্ব 2 - 3 অর্থাৎ জলের থেকে 2 - 3 গুন ভারী।
আয়তন ও ভরঃ- পৃথিবীর মোট আয়তনের মাত্র 2% হল ভূ-ত্বক এবং এর ভর মাত্র 0.38%।


ভূ-ত্বক গঠনকারী উপাদানঃ-

উপাদান (Element) শতাংশ (%)
O₂ (অক্সিজেন) 46.6%
সিলিকন (Si) 27.7%
অ্যালুমিনিয়াম 8.1%
লোহা 5.0%
ক্যালসিয়াম 3.6%
সোডিয়াম 2.8%
পটাশিয়াম 2.6%
ম্যাগনেশিয়াম 2.1%


ভূ-ত্বকে ভূমিকম্পের বেগঃ—

ভূমিকম্পের তরঙ্গ গতিবেগ (km/sec)
P তরঙ্গ 6 – 8 km/sec
S তরঙ্গ 4.5 – 5 km/sec
L তরঙ্গ 3 – 4 km/sec


উপস্তরঃ—

মহাদেশীয় ভূ-ত্বক বা সিয়াল (Sial):—

(i) ভূ-ত্বকের একেবারে উপরের অংশ হালকা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত, একে সিয়াল বলে, (Si+Al) = Sial।
(ii) সিয়াল স্তর দ্বারা ভূ-ত্বকের স্থলভাগ বা মহাদেশগুলি গঠিত বলে একে মহাদেশীয় ভূ-ত্বক বলে।
(iii) এটি হালকা গ্রানাইট ও ডায়োরাইট জাতীয় আম্লিক শিলা দ্বারা গঠিত।
(iv) সিয়ালস্তরের গড় ঘনত্ব 2.5 - 2.9 gm/cc।
(v) এটি পৃথিবীর মোট ভরের 0.37% অধিকার করে।
(vi) এই স্তরে P তরঙ্গের গতিবেগ 6.2 - 6.9 km/sec।
(vii) এর 95% আগ্নেয় শিলা।
(viii) গড় গভীরতা 20 - 70 km।

সিমা (Sima) বা মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকঃ—

(i) ভূ-ত্বকের নীচের অংশ সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত একে সিমা বলে, (Si+Ma) = Sima
(ii) ভূ-ত্বকের নিম্নাংশ অর্থাৎ মহাসাগরীয় তলদেশ সিমা দ্বারা গঠিত বলে একে মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক বলে।
(iii) স্তরটি ব্যাসল্ট জাতীয় ক্ষারকীয় শিলায় গঠিত।
(iv) সিমার ঘনত্ব 2.9 - 3.3 gm/cc।
(v) এই স্তরের গভীরতা 5 - 7 km,
(vi) এটি পৃথিবীর মোট ভরের 0.099% অধিকার করে আছে,
(vii) এই স্তরে P তরঙ্গের গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় 7.8 km/sec

বিমিশ্র ভূ-ত্বক :-

প্রায় প্রতিটি মহাদেশের প্রান্তভাগে অবস্থিত অগভীর সমুদ্রের তলদেশ ও দ্বীপসমূহ মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের মিশ্রণে সৃষ্ট, যাকে বিমিশ্র ভূ-ত্বক বলে।

বিযুক্তি রেখা বা বিযুক্তি তল :-

(i) ভূ-ত্বকের ওপর স্তর সিয়াল ও নিচের স্তর সিমার মধ্যবর্তী যে বিচ্ছেদতল অবস্থান করছে তাকে কনরাড বিযুক্তি বলে, এর গভীরতা 15 km। বিজ্ঞানী ভিক্টর কনরাড 1925খ্রীঃ এটি আবিষ্কার করেন।
(ii) ভূ-ত্বক ও গুরুমন্ডলের মধ্যবর্তী অর্থাৎ সিমা ও ঊর্ধ্ব গুরুমন্ডলের মধ্যবর্তী বিচ্ছেদতলকে মোহোবিযুক্তি বলে। এর গভীরতা 33 km। 1907 খ্রীঃ অ্যানড্রিজা মোহোরোভিসিক এই বিযুক্তির সন্ধান দেন।

গুরুমন্ডল বা ম্যান্টল [Mantle] :-

সংজ্ঞাঃ— ভূ-ত্বক বা শিলামন্ডলের নীচের স্তরটি মাঝারি উষ্ণ, সান্দ্র পদার্থে গঠিত স্তরটিকে গুরুমন্ডল বা ম্যান্টল বলে, একে Barysphere-ও বলে।
অবস্থানঃ— কেন্দ্রমন্ডল ও ভূ-ত্বকের মাঝে অবস্থিত গুরুমন্ডল।
গভীরতাঃ— স্তরটি 33 km থেকে ভূ-অভ্যন্তরে 2900 km পর্যন্ত বিস্তৃত।
আপেক্ষিক ঘনত্বঃ— এই স্তরের আপেক্ষিক ঘনত্ব 3.5 - 5.5 gm/cc
উষ্ণতাঃ— এই স্তরের উষ্ণতা প্রায় 2700°C।
ভূ-কম্প তরঙ্গের বেগঃ— (i) P তরঙ্গের বেগ 9 - 33.5 km/sec
(ii) S তরঙ্গের বেগ 5 - 8 km/sec।
আয়তন ও ভরঃ— গুরুমন্ডলের আয়তন পৃথিবীর মোট আয়তনের 83% ও ভর প্রায় 68%
পদার্থঃ— ভারী ধাতব সান্দ্র লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম দ্বারা গঠিত।

• উপস্তর :-

ঊর্ধ্বগুরুমন্ডল :-
ভুতত্বকের নীচে অবস্থিত মোহ বিযুক্তি থেকে নীচে 700 km ব্যাসার্ধ পর্যন্ত স্তরকে বহিঃগুরুমন্ডল বলে, এটি ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকা (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত হওয়ায় একে ক্রোফেসিমা বলে। এই স্তরের উষ্ণতা 1900°C, একে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার বলে।
মোহো বিযুক্তি থেকে 400 km পর্যন্ত ঊর্ধ্বগুরুমন্ডলের অংশকে বলে গুটেনবার্গস্তর এবং 400 - 700 km পর্যন্ত তরল স্তরটিকে গলিত সাইনস্তর বলে।

নিম্নগুরুমন্ডল :-

ভূ-ত্বকের 700 km গভীরতা থেকে 2900 km পর্যন্ত বিস্তৃত অপেক্ষাকৃত ঘন স্তরটিকে অন্তঃগুরুমন্ডল বলে। এটি নিকেল (Ni), লোহা (Fe), সিলিকন (Si), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত বলে একে নিফেসিমা বলে।

বিযুক্তি তল :-

700 km গভীরের অবস্থিত ঊর্ধ্বগুরুমন্ডল ও নিম্নগুরুমন্ডলের মাঝে অবস্থিত বিচ্ছেদতলকে রেপিট্টি বিযুক্তি বলে। ভূ-বিজ্ঞানী রেপিট্টি এর সন্ধান পান।

কেন্দ্রমণ্ডল বা Core :—

সংজ্ঞাঃ— পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে সবচেয়ে ভারী উষ্ণতম অর্ধতরল ম্যাগমা দ্বারা গঠিত স্তরটিকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে। একে সেন্ট্রোস্ফিয়ারও বলে।
অবস্থানঃ— গুরুমন্ডলের ঠিক নীচে ও পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে।
গভীরতাঃ— ভূ-অভ্যন্তর থেকে 2900 km গভীরতা থেকে ভূ-কেন্দ্র অর্থাৎ 3671 km পর্যন্ত।
পদার্থঃ— ভারী ধাতব অর্ধতরল লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni) দ্বারা গঠিত, তাই এই স্তরটিকে NIFE বলে।
ঘনত্বঃ— এই স্তরের ঘনত্ব তিনটি স্তরের মধ্যে সর্বাধিক 10 - 13 gm/cc
আয়তন ও ভরঃ— কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর মোট আয়তনের 16 ভাগ এবং মোট ভরের 32 ভাগ দখল করে আছে।
উষ্ণতাঃ— উষ্ণতা অত্যন্ত বেশি এবং অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। উষ্ণতা প্রায় 4000 - 6000°C
চাপঃ— কেন্দ্রমণ্ডলের চাপ সবচেয়ে বেশি, প্রায় 3500 কিলোবার।
ভূ-কম্পীয় তরঙ্গঃ— P তরঙ্গ কেবলমাত্র 11 - 13 km/sec বেগে এই স্তরে প্রবাহিত হয়।
উপস্তর :— (i) বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলঃ— গুটেনবার্গ বিযুক্তি থেকে 5151 km পর্যন্ত লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম সমৃদ্ধ যে অর্ধতরল স্তর তাহাই বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল। এর ঘনত্ব 10 - 12 gm/cc, উষ্ণতা 4000°C, P তরঙ্গের গতিবেগ 8 - 20 km/sec
ii) অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলঃ— এটি 5150 km থেকে 3371 km (কেন্দ্র) পর্যন্ত বিস্তৃত। স্তরটির উষ্ণতা 5000 - 6000°C। এই স্তরের ঘনত্ব সর্বাধিক 12 - 13.6 gm/cc, P তরঙ্গের গতিবেগ 11.23 km/sec। প্রচণ্ড উত্তাপ থাকা সত্ত্বেও অত্যধিক চাপের কারণে এই স্তরের পদার্থগুলি কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

বিযুক্তিতলঃ—

(i) গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে 2900 km গভীরে অবস্থিত বিযুক্তি তলটি উইশার্ট-গুটেনবার্গ বিযুক্তি নামে পরিচিত। এটি 1912 খ্রীঃ আবিষ্কৃত হয়।
(ii) 5150 km গভীরে অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ও বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী বিযুক্তি তলটিকে বলে লেহম্যান বিযুক্তি বা বুলেন বিযুক্তি




Q.③ ভূ-ত্বক, গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডলের মধ্যে পার্থক্য :—

পার্থক্যের বিষয় ভূ-ত্বক গুরুমন্ডল কেন্দ্রমন্ডল
১. অবস্থান এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উপরিভাগে অবস্থিত। ভূ-ত্বক ও কেন্দ্রমন্ডলের মাঝে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে অবস্থিত।
২. বেধ এটি সবচেয়ে পাতলা, 33 km পুরু। ভূ-ত্বকের চেয়ে বেশি ও কেন্দ্রমন্ডলের চেয়ে কম, গড়ে 2900 km। সবচেয়ে বেশি পুরু, গড় 3500 km।
৩. বিস্তার ভূপৃষ্ঠ থেকে মোহো বিযুক্তি পর্যন্ত (প্রায় 0–33 km)। মোহো বিযুক্তি থেকে গুটেনবার্গ বিযুক্তি পর্যন্ত (33–2900 km)। গুটেনবার্গ বিযুক্তি থেকে ভূ-কেন্দ্র পর্যন্ত (2900–6371 km)।
৪. অবস্থা এর পদার্থ কঠিন অবস্থায় আছে। এর পদার্থ সান্দ্র (আংশিক তরল) অবস্থায় আছে। এর পদার্থ তরল ও কঠিন উভয় হয়।
৫. উষ্ণতা সবচেয়ে কম, প্রায় 600°C। মাঝারি, প্রায় 3000°C। সর্বাধিক, 5000–6000°C।
৬. উপাদান হালকা সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, Ma;
 Si+Al = SIAL,
Si+Ma = SIMA
লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন;
Cro-Fe-Sima
Ni -Fe-Sima
সবচেয়ে ভারী লোহা ও নিকেল;
 Ni+Fe = Nife
৭. ঘনত্ব সবচেয়ে কম, 2.7 – 2.9 gm/cc মাঝারি, 3.5 – 5.5 gm/cc সবচেয়ে বেশি, 10 – 13 gm/cc
৮. চাপ সবচেয়ে কম মাঝারি সবচেয়ে বেশি
৯. ভূ-কম্পীয় তরঙ্গ P, S, L—সব তরঙ্গ চলাচল করে। P ও S তরঙ্গ দ্রুত চলে। কেবলমাত্র P তরঙ্গ চলে (S তরঙ্গ চলে না)।
১০. ভর মোট ভরের 0.38% প্রায় 68% প্রায় 32%
১১. আয়তন মোট আয়তনের 2% প্রায় 83% প্রায় 15%

শিয়াল (Sial) ও সীমা (Sima) / মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের পার্থক্য

পার্থক্যের বিষয় মহাদেশীয় ভূ-ত্বক বা সিয়াল (Sial) সিমা বা মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক (Sima)
১. অবস্থান মহাদেশের স্থলভাগে সিমার ওপর অবস্থিত মহাসাগরের তলদেশে ও সিয়ালের নিচে অবস্থিত
২. বিস্তার ভূপৃষ্ঠ থেকে কনরাড বিযুক্তি পর্যন্ত সর্বোচ্চ 70 km কনরাডবিযুক্তি থেকে মোহো বিযুক্তি পর্যন্ত সর্বোচ্চ 10 km
৩. বেধ পুরু, গড়ে 30–45 km পাতলা, গড়ে 5–7 km
৪. ক্ষেত্রমান মোট ভূ-ত্বকের 29% এটি 71%
৫. বয়স অত্যন্ত প্রাচীন 150–380 কোটি বছর পুরোনো অপেক্ষাকৃত নবীন।প্রায় 20 কোটি বছর পুরোনো।
৬. উপাদান হালকা সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম
Si + Al = Sial (হালকা)
ভারী সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা
Si + Ma = Sima 
৭. শিলা আগ্নেয়, পাললিক, রূপান্তরিত তিন ধরনের শিলায় গঠিত। তবে ৯৫% আগ্নেয়শিলা।(গ্রানাইট, ডায়োরাইট প্রধান) ভারী ব্যাসাল্ট ও গ্যাব্রো আগ্নেয় শিলা, নানা জৈব পদার্থ ও পলি দ্বারা গঠিত। কিন্তু রূপান্তরিত ও পাললিক শিলা নেই।
৮. ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত হালকা, ঘনত্ব 2.78 gm/cc অপেক্ষাকৃত ভারী, ঘনত্ব 3gm/cc
৯. ভূমিরূপ পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, নদী, হিমবাহ মহীসোপান , উপত্যকা, গ্রস্ত উপত্যকা দেখা যায় এক্ষেত্রে নিমজ্জিত শৈলশিরা, গায়ট, সামুদ্রিক পাহাড়, মালভূমি, সমভূমি, গভীর সমুদ্রখাত, অন্তঃসাগর গিরিখাত রয়েছে
১০. শিলাচক্র কম সক্রিয় অত্যন্ত সক্রিয়
১১. পাত (Plate) পাত সীমানা বরাবর এটি সিমা ভূত্বকের ওপর উঠে যায় মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের নিচে ঢুকে যায় 
১২. নমনীয়তা অপেক্ষাকৃত নমনীয় দৃঢ় ও কঠিন
১৩. অন্যান্য গভীরতা, উপাদান, গঠন, ঘনত্ব স্থানভেদে পরিবর্তিত প্রায় সর্বত্র একই ধরনের

ভূমিকম্পের ছায়াবলয় কাকে বলে? (Seismic Shadow zone)

ভূমিকম্পের ছায়াবলয়
ভূমিকম্পের ছায়াবলয়


উদ্ভাবক:— 1897 খ্রীঃ উইশার্ট ও গুটেনবার্গ প্রথম ছায়া বলয়টি লক্ষ্য করেন।
বর্ণনা:— (i) ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 2900 km গভীরতায় শিলা কঠিন অবস্থা থেকে তরলে স্থানান্তরিত হয়। (ii) তাই ভূ-পৃষ্ঠের উপকেন্দ্র থেকে 104 - 140°কৌণিক দূরত্বে P ও S তরঙ্গ ভূকম্প গ্রাহক যন্ত্রে ধরা পড়ে না। (iii) তাই ভূ-গোলককে ঘিরে এই কৌণিক দূরত্বগুলি দিয়ে চিহ্নিত বলয়টিকে ভূকম্প ছায়াবলয় বলে।
বৈশিষ্ট্য:— (i) এই বলয়ে পদার্থগুলি তরল থাকায় S তরঙ্গ প্রবেশ করতে পারে না।
(ii) এই বলয়ে P তরঙ্গ প্রবেশ করে অপসৃত হয়ে যায়। (iii) P তরঙ্গ পুনরায় 140° কৌণিক দূরত্বের পর ফিরে আসে।






Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Random Products